শ্রীশ্রীগুরু-গৌরাঙ্গৌ জয়তঃ



প্রভুপাদ নামের অপসারণ

অভক্তিবিনোদ ধারা
  বিশ্ববরেণ্য পরম পূজ্যপাদ অভিন্ন শ্রীগুরুপাদপদ্ম ওঁবিষ্ণুপাদ শ্রীল ভক্তি বেদান্ত স্বামী মহারাজ তাঁর গুরুদেব গৌড়ীয় আচার্য্যভাস্কর শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী ঠাকুরের আদেশে সমগ্র বিশ্বে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর অমল প্রেম ধর্মের বাণী প্রচার করেছেন। প্রতি পদক্ষেপে শ্রীল ভক্তি বেদান্ত স্বামী মহারাজ বলেছেন, তিনি একান্তই তাঁর শ্রীগুরুদেব শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী ঠাকুরের কৃপায় বলীয়ান হয়ে তাঁর আদেশ পালন করছেন মাত্র। কিন্তু, একটি সংস্থা শ্রীল স্বামী মহারাজের প্রচার কার্যের গৌরবকে জড়-জাগতিক প্রতিষ্ঠা প্রদান করার উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে চলেছে। শ্রীল ভক্তি বেদান্ত স্বামী মহারাজ নিত্য শ্রীগোলক বৃন্দাবন ধামে ব্রজরাজনন্দন শ্রীকৃষ্ণের সখা। শ্রীল ভক্তি বেদান্ত স্বামী মহারাজের পারমার্থিক রূপ দর্শন না করে, সেই সংস্থা টি শ্রীল স্বামী মহারাজের বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই জড় জগতে বদ্ধ জীবের ক্রিয়াকলাপ এইরূপই হয়ে থাকে। “বিড়ম্বনা” - এই কারণে যে, শ্রীল স্বামী মহারাজ কে জড় জাগতিক উচ্চতায় কৃত্রিম ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে তাঁকে তাঁর পরম্পরা থেকেই বিচ্ছিন্ন করার উপক্রম করেছে। যেমন - সেই সংস্থাটির অধীন সকলে শুধু শ্রীল স্বামী মহারাজের লিখিত গ্রন্থাদি-ই পড়বেন। তাঁরা পূর্ব-পূর্ব আচার্য্যগণের গ্রন্থাদির অনুশীলন করবেন না। তাঁরা বাহ্যত শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের মনোঽভীষ্ট পূরণ কারী রূপে জগতে নিজেদের সম্বন্ধে পরিচয় দেবেন। কিন্তু, শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের জৈবধর্ম-আদি গ্রন্থ-সমূহ সর্বতোভাবে বর্জন করবেন।

শ্রীভক্তিবিনোদের বৈভব সরস্বতী
শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর মহাশয় যে নিত্যসিদ্ধ পার্ষদ কে নিত্যধাম থেকে আমন্ত্রণ করে নিয়ে এলেন সেই শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী ঠাকুর কে এই সংস্থাটি অতি-চাতুর্য্যের সঙ্গে উপেক্ষা করেন। শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর মহাশয় যে শ্রীল সরস্বতী ঠাকুরকে “বিনোদ-বৈভব-সরস্বতী”-রূপে বর্ণনা করেছেন, এই সংস্থাটি সেই নিত্যসিদ্ধ ভগবদ্-পার্ষদ, হ্লাদিনীর অতীব প্রিয়, শ্রীল সরস্বতী ঠাকুরের ভক্তিসিদ্ধান্ত-সমূহ ও উপদেশাদি অবজ্ঞা-পূর্বক এড়িয়ে যান। শ্রীল সরস্বতী ঠাকুরের স্থাপিত শুদ্ধভক্তির পীঠস্থান শ্রীগৌড়ীয় মঠের নামে অবাস্তব-কুৎসা রচনা করে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়ে অপরাধ সংগ্রহ তথা লোক-বঞ্চনা করেন। শ্রীল সরস্বতী ঠাকুরের পরম প্রিয় পার্ষদ অপর সকল আশ্রিত-আশ্রিতাদের চরম অবমাননা করেন।

প্রভুপাদ নামের অপসারণ ও অপহরণ
সর্বোপরি শ্রীল সরস্বতী ঠাকুরের “প্রভুপাদ” নাম টি অপহরণ করে (ছিনিয়ে নিয়ে) এই সংস্থাটি শ্রীল ভক্তি বেদান্ত স্বামী মহারাজ কে প্রদান করেন। সেই কার্য্যটি সম্পূর্ণ হয়েছে। সর্বত্র তেমনটাই দেখা যায়। নীচে তার একটি মাত্র নিদর্শন - উদাহরণ স্বরূপ দেওয়া হল।

প্রভুপাদ নামের অপসারণ ও অপহরণ

"প্রভুপাদ" নামের অপসারণ ও অপহরণ

শ্রীরূপানুগের বৈশিষ্ট্য
সেই কার্য্যটি, মহা-অপরাধটি, মহা-অবজ্ঞাটি সম্পূর্ণ হয়েছে। কোন একটি সংস্থার ব্যবসা-বাণিজ্য-প্রসার-প্রতিষ্ঠা-আদি ক্ষণিকের জন্য আপাত অর্থে সুবিধাজনক হচ্ছে বলে তাঁদের মনে হলেও, গুরুদেবাত্মা শ্রীল ভক্তিবেদান্ত স্বামী মহারাজ কি এতে খুশী হয়েছেন বা হচ্ছেন? এই সংস্থা টি প্রকৃত অর্থে যদি ভক্তিবিনোদ-ধারার অংশ রূপে প্রবাহিত হত, সারস্বত গৌড়ীয় পরিবারের সদস্য হত, সংস্থার কর্ণধারগণ যদি সত্য-সত্যই শ্রীল স্বামী মহারাজের শিক্ষাদি গ্রহণ করতেন, তাহলে তাঁরা শ্রীরূপানুগত্বের বৈশিষ্ট্য হৃদয়ঙ্গম করতে পারতেন। শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী ঠাকুরের উপদেশে শুনি - “শ্রীরূপানুগ ভক্তগণ নিজ শক্তির প্রতি আস্থা স্থাপন না করিয়া আকর স্থানে সকল মহিমার আরোপ করেন।”

প্রভুপাদ শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী ঠাকুর

প্রভুপাদ শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী ঠাকুর

প্রার্থনা
আমাদের সবিনয় প্রার্থনা এই যে, উক্ত সংস্থা টির অনুসরণকারীগণ, পরমগুরুদেব প্রভুপাদ শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী ঠাকুরের প্রতি যে মৎসরতা ও অসূয়া-রূপ মহা-অপরাধে নিজেদের ও বিশ্ববাসীকে নিমজ্জিত করছেন - সেই দুর্বুদ্ধি ও মহাকুম্ভীপাক নরকের পথ পরিত্যাগ করুন। নিজ নিজ জড় ও ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠার স্বার্থ ত্যাগ করে, অভিন্ন শ্রীগুরুপাদপদ্ম ওঁবিষ্ণুপাদ শ্রীল ভক্তিবেদান্ত স্বামী মহারাজের শ্রীচরণে প্রকৃত-অর্থে শরণাগত হলেই তা সম্ভব।

ওঁ বিষ্ণুপাদ শ্রীল ভক্তিবেদান্ত স্বামী মহারাজ

ওঁ বিষ্ণুপাদ শ্রীল ভক্তিবেদান্ত স্বামী মহারাজ

জয়ধ্বনি –
সপার্ষদ প্রভুপাদ শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী ঠাকুর জয়যুক্ত হৌন!!

More